শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০০৯

ভারতীয় হাইকমিশনারকে না বলুন

ভারতীয় হাইকমিশনারকে না বলুন
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও ভারতের সব অন্যায় দাবির কাছে নিঃশব্দ আত্মসমর্পণের ফলে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার অবিরাম সব কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেই যাচ্ছেন।সরকারের তরফ থেকে এর কোনো পর্যায়েই কোনো প্রতিবাদ না হওয়ায় পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী কথাবার্তায় এমন ঔদ্ধত্যের পরিচয় দিচ্ছেন।বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষ এবং বিশেষজ্ঞদের ব্যাপারে লাগামহীন কথাবার্তা বলেই যাচ্ছেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী তার দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক এবং এটাই তার কাজ। কিন্তু এ দেশের জনগণ ও বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অপমান করার কোনো অধিকার তাকে দেয়া হয়নি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইস্যু বিভিন্ন। এর মধ্যে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয়া, ভারতের বাংলাদেশী পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে নানা ধরনের ট্যারিফ-ননট্যারিফ বাধা সৃষ্টি করা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে করিডরের দাবির জন্য বাংলাদেশের সব সড়ক ও রেলপথ ব্যবহার করা, চট্টগ্রাম ও মংলাবন্দর ভারতের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া এবং সর্বশেষ টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নতুন করে মরুভূমিতে পরিণত করার অপচেষ্টা প্রধান হয়ে উঠেছে।
এসব ইস্যুতে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে নবিস মন্ত্রীরা এমন সব কথাবার্তা বলছেন যাতে মনে হয় না যে, তারা বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার সদস্য। বরং কখনো কখনো মনে হয় তারা ভারতীয় কেন্দ্রীয় বা কোনো প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রী। ফলে পিনাক রঞ্জনের মতো একজন ভারতীয় কর্মকর্তাও বাংলাদেশের মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সাহস পাচ্ছে।
ভারতের ভেতর দিয়ে আসা বরাক নদী একটি আন্তর্জাতিক নদী এবং আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বরাক নদীর পানির ওপর সমান অধিকার রয়েছে। এই নদী সিলেট অঞ্চলে সুরমা ও কুশিয়ারায় বিভক্ত হয়ে মেঘনায় পড়েছে। ফলে মেঘনা নদীর নাব্যতা, সেখানে পানি পাওয়া বহুলাংশেই বরাক নদীর ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক নীতি ও ভারত-বাংলাদেশ পানি চুক্তিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, অভিন্ন নদীর ওপর কোনোরূপ স্থাপনা নির্মাণ করতে ভারত বাংলাদেশের অনুমতি নেবে। কিন্তু এসবের কোনো তোয়াক্কা না কারেই ভারত বাংলাদেশ থেকে শতাধিক কিলোমিটারের ওপরে বরাক নদীর ওপর টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করতে শুরু করেছে। বৃহত্তর সিলেটের ছয়টি জেলার মানুষ তাদের অস্তিত্ব সঙ্কটের কথা চিন্তা করেই ভারতীয় এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে। একই সাথে বাংলাদেশী নদী ও পানি বিশেষজ্ঞরা এই বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশ যে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, সে বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত তুলে ধরেছেন। তারা বলেছেন, এতে দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় নতুন করে যেমন মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে তেমনি পরিবেশ বিপর্যয়সহ বন্যা ও বড় ধরনের ভূমিকম্পও হতে পারে। আর শুধু বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরাই এ কথা বলেছেন না, ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা একই ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতের ওয়েব সাইটেই বলা হয়েছে, তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য টিপাইমুখে একটি ড্যাম নির্মাণ করবে এবং সেচকাজে ব্যবহারের জন্য ব্যারাজ নির্মাণ করে পানি আসামের দিকে নিয়ে যাবে।
অথচ ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী এ কথা লুকিয়ে গিয়ে বারবার বলছেন, সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পানি আটকে রাখা হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন শেষে সে পানি ছেড়ে দেয়া হবে। বরাক হয়ে সুরমা-কুশিয়ারা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হবে এবং এতে বাংলাদেশের নদীগুলোর কোনো ক্ষতি বাড়বে না। টিপাইমুখে বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা যে বিরোধিতা করছেন, তা পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তারা তা না জেনেই করছেন।
ভারতের এই আমলা নিজে কোনো পানি বা নদী বিশেষজ্ঞ নন। এমনকি বরাক নদীর পানিকেও টেনে নিয়ে আসামের সেচকাজে ব্যবহার করবেন না সে কথা তিনি কখনই উল্লেখ করছেন না। বরাক নদীর পানি আসামের দিকে টেনে নিয়ে গেলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি প্রবাহ কমপক্ষে এক মিটার নিচে নেমে যাবে। তাতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকাগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়বে এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবন জীবিকা, রুটি-রোজগারের পথ হুমকির মুখে পড়বে। তাছাড়া এ এলাকার ব্যাপক প্রাণবৈচিত্র্যও ধ্বংস হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক বিধান অনুযায়ী উজানের কোনো দেশ সে দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীতে এমন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না, যার ফলে ভাটির দেশের প্রাণবৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে।
টিপাইমুখে এই বাঁধ নির্মিত হলে বাংলাদেশের প্রাণবৈচিত্র্যও ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। এটা শুধু পানির অভাবে নয়, স্বাদু পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত হলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি বাংলাদেশের নদ-নদীগুলোর আরো ভেতরে প্রবেশ করবে। এর পরিণতিতেও বাংলাদেশের প্রাণবৈচিত্র্যও যেমন বিনষ্ট হবে, তেমনি চাষাবাদের জমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা এবং সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার লাখ লাখ মানুষকে জীবিকার সন্ধানে শহরগুলোতে ছুটে আসতে হবে। এটিও বিরাট মানবিক সঙ্কটের সৃষ্টি করবে।
ভারত সরকার যখন টিপাইমুখে এ বাঁধ দেয়ার পরিকল্পনা করে তখন মিজোরাম ও মনিপুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। সে ক্ষোভ প্রশমন করতে ওই দুই প্রদেশের নাগরিকদের জন্য নানা ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। কয়েক বছর আন্দোলনের পর শেষ পর্যন্ত ওই দুই প্রদেশের প্রাদেশিক পরিষদ বাঁধ নির্মাণ অনুমোদন করেন। তার পরেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিই এখন ভারতের কাছে এতটাই নতজানু যে, ভারতের প্রাদেশিক সরকার যে প্রতিবাদ করেছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সেটুকু প্রতিবাদেরও যেন মুরোদ হারিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশের পানিমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন বলেছেন, ভারত আগে বাঁধ দিক তারপর দেখব আমাদের কী লাভ ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতি হলে তখন প্রতিবাদের প্রশ্ন আসবে। এমন দাসানুদাস মনোবৃত্তি কোনো স্বাধীন দেশের সরকার ও নাগরিকের জন্য সম্মানজনক নয়। আর এক মন্ত্রী বলেছেন, টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে ভারত যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, বাংলাদেশ তা আমদানি করে লাভবান হতে পারে। একে সীমাহীন অজ্ঞানতা ছাড়া আর কিছু বলে অভিহিত করা যায় না।
বাংলাদেশ থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে নেপালে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নেপাল-ভুটান-ভারত-বাংলাদেশে সব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব। সেই প্রস্তাবকে ভারতীয় কূটনীতিকরা অবাস্তব কল্পনা বলে অভিহিত করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে মাত্র ২৩ কিলোমিটার জায়গায় বিদ্যুৎ খুঁটি বসানো ভারতের দৃষ্টিতে অবাস্তব কল্পনা। কারণ, তাদের ভাষায় এই বিদ্যুতের তার বেয়ে বাংলাদেশের তথাকথিত সন্ত্রাসীরা ভারতে ঢুকে পড়বে এবং ভারতের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাই বিঘ্নিত হবে। একই যুক্তিতে এই ২৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নেপালে বাংলাদেশের পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভারত চুক্তি করেও কোনো দিন তা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি। এখন সে চুক্তি কাগজেই সীমাবদ্ধ আছে। বাংলাদেশের রফতানিপণ্য নেপালে যেতে দেয়া হচ্ছে না। সেই ভারত টিপাইমুখ থেকে দেড় শ? কিলোমিটার খুঁটি গেড়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি করবে এমন আজগুবি কল্পনা কোনো দুগ্ধপোষ্য শিশুও করতে পারে না, পাগলেও না। অথচ বাংলাদেশের মন্ত্রী তেমন এক কথা নিয়ে আনন্দে বেল বাজিয়ে চলেছেন। ভারতেই বিপুল বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। সুতরাং এসব মধুমাখা কথায় আস্থা স্থাপনের মানে দেশ ধ্বংসের শামিল।
ভারত গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ চালু করার সময় একই রকম মিষ্টি কথা বলেছিল এবং ১৯৭৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী ২১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে (১৯৭৫) পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কার ক্যানেল চালু করার চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে তারা এই বাঁধ নিয়ে আর কোনো কথাও বলেনি এবং ১ জুন ১৯৭৫ থেকেই ফিডার ক্যানেল বন্ধ করেনি। ফারাক্কার পানি প্রত্যাহার শুরু করে দিয়েছিল। তখন শেখ মুজিবুর রহমান সরকারও তার অত্যধিক ভারত নির্ভরতার কারণে এর কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। পরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকার ১৯৭৬ সাল থেকে অভিন্ন নদী গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আন্তর্জাতিকভাবে জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। সে উদ্যোগে আন্তর্জাতিক জনমত বাংলাদেশের অনুকূলে এনে ১৯৭৭ সালে ফারাক্কা ইস্যুটি জাতিসঙ্ঘে উত্থাপন করেন তখন অনন্যোপায় হয়ে ভারত বাংলাদেশের সাথে উভয় দেশের স্বার্থানুকূল একটি সম্মানজনক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। সে চুক্তির গ্যারান্টি ক্লজ এই ছিল যে, কোনো পক্ষ চুক্তির ধারা লঙ্ঘন করলে অপর পক্ষ তৃতীয় কোনো মধ্যস্থতাকারীর দ্বারস্থ হতে পারবে। তিন বছরের জন্যও ওই চুক্তি সম্পাদিত হলেও জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর ভারত গায়ের জোরে একতরফাভাবে গঙ্গায় পানি প্রত্যাহার শুরু করে।
আওয়ামী লীগ শাসন আমলে ১৯৯৬ সালে সরকার ভারতের সাথে তিরিশ বছর মেয়াদি একটি পানিচুক্তি স্বাক্ষর করে। অর্থাৎ সে চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ তুলে দেয়া হয়। ফলে চুক্তিবলে বাংলাদেশে যেটুকু পানি পাওয়ার কথা ভারত তা না দেয়ায় বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় কোনো শক্তির দ্বারস্থ হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। এ কারণে ১৯৯৬ সালের চুক্তির পরও বাংলাদেশ চুক্তি মোতাবেক কখনো পানি পায়নি। ভারত খামখেয়ালি মতো গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এবারো শুষ্ক মৌসুমে ভারত বাংলাদেশকে চুক্তির চেয়ে ৮৩ হাজার কিউসেক পানি কম দিয়েছে। এ ক্ষেত্রেও পানিমন্ত্রীর সাফাই ছিল, ফারাক্কায় যদি পানিই না থাকে তাহলে ভারত কোথা থেকে পানি দেবে।
এতসব কারণেই ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন এ রকম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার সাহস পেয়েছেন। পানির ব্যাপারে সরকার নিশ্চুপ। টিপাইমুখের বাঁধ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খামোশ। দেশের ভারতানুগামী তথাকথিত সুশীলরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। সুতরাং টিপাইমুখের ব্যাপারেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে সোচ্চার হয়ে উঠতে হবে। আর আত্মমর্যাদাবান জাতি হিসেবে কূটনৈতিক শিষ্ঠাচার লঙ্ঘনের দায়ে ভারতের এই 'অর্বাচীন' হাইকমিশনারকে প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে অনড় দাবি জানানো হোক।
ভারত তার কূটনৈতিক অফেনসিভ তীব্রতর করেছে
যত দ্রুত সম্ভব তারা ট্রানজিট হাইওয়ে ও বন্দর চায়
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত বাংলাদেশের কাছে রাতারাতি অনেক প্রস্তাব তুলে ধরেছে। আর এ প্রস্তাবগুলোর সাথে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জড়িত। এমতাবস্থায় জনমনে প্রশ্ন-ভারত কি বাংলাদেশেকে মুঠিবদ্ধ করতে যাচ্ছে?
ভারত-বাংলাদেশের কাছে এই মুহূর্তে চাইছে (১) পূর্ব-পশ্চিম রেল-ট্রানজিট (২) উত্তর-দক্ষিণ নৌ-ট্রানজিট (৩) চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার সুবিধা (৪) তাদের সুবিধা মত এশিয়ান হাইওয়ে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার তার দেশের প্রতিনিধি হয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে এসব বিষয়ে অবিরাম আলোচনা করে যাচ্ছেন, আর প্রস্তাবগুলো তুলে ধরছেন, যোগাযোগ মন্ত্রীর সাথে বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের উপর দিয়ে রেল ট্রানজিটের কথা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ??আমরাতো আগরতলা পর্যন্ত রেল লাইন করেই রেখেছি। ঢাকার সাথে তো কলকাতা পর্যন্ত ট্রেন চলছেই। এখন বাকি পথটা হলেই হয়।?? অপরদিকে যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেছেন, আমরা ভারতের কাছে রেলের উন্নয়ন সহযোগিতা চেয়েছি। ভারতীয় হাইকমিশনার নৌ পরিবহন মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর ভারতীয় হাইকমিশনার সাংবাদিকদের কাছে নৌ-ট্রানজিটের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে উত্তর-দক্ষিণ নৌ যোগাযোগ সহজ করতে হবে। এই যোগাযোগ চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণ অর্থাৎ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি নৌ-যান চলাচল করার মত সুবিধা চাইছেন। এজন্য তিনি বাংলাদেশে নদী খনন করার বিষয়ে নৌ-মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। ভারতীয় হাইকমিশনার চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার সুবিধার কথা বলেছেন। গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন এবং তা ব্যবহার করার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন- বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দর এদেশের জন্যেই লাভবান হবে। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর যদি ভারত এবং মিয়ানমার ব্যবহার করতে পারে তাহলে বাংলাদেশই লাভবান হবে। আর বাংলাদেশের নৌ-পরিবহন মন্ত্রীও ভারতীয় এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে মনে করেন। ভারতীয় হাইকমিশনার স্থল বন্দর উন্নয়নের কথাও বলেছেন।
এদিকে ভারতের চাহিদামত এশিয়ান হাইওয়েতে বাংলাদেশ যুক্ত হতে যাচ্ছে। এই হাইওয়ে মূলত: বাংলাদেশ ভারতের পূর্ব-পশ্চিম আর উত্তর-দক্ষিণ করিডোর হিসেবে ব্যবহার হবে। এ সম্পর্কিত প্রস্তাবনাও সরকার অনুমোদন করতে যাচ্ছে। আনুসঙ্গিক কাজ প্রায় শেষ। এখন শুধু কেবিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায়। একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত এ সম্পর্কে বলেছেন- যে পথে বাংলাদেশ এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হতে যাচ্ছে, সেটির নক্শা করেছেন ভারতীয়রা। তিনি বলেন, ইউএন-এসকাপে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বসে আছেন। আর এই রুটের নক্শা তাদের প্রণীত। এখানে ভারতের স্বার্থকে রক্ষা করা হয়েছে। সাবেক এই দূত আরো জানান- এশিয়ান হাইওয়েতে বিগত সরকার এই কারণেই মত দেননি। ভারতের চাহিদামত ?রুট' গত জোট সরকার পছন্দ করেননি। আমি নিজেও এর সাথে জড়িত থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে জানা আছে। তবে জনৈক এক ব্যক্তি যিনি বিশেষজ্ঞ বলে জড়িত, তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশ দৌড়-ঝাপ করেছেন। তবে উনার দালালি কাজে লাগেনি। তিনি এদেশের সন্তান হয়েও দালালি করতে গেছেন অন্য একটি দেশের।
ভারতের উল্লেখিত দাবিগুলোর বিষয়ে বর্তমান সরকার অনেকটাই ইতিবাচক বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। কারণ জাতীয় স্বার্থ বিরোধী ভারতের দাবির বিপক্ষে সরকার পক্ষে কোনো বক্তব্য নেই। বরং ভারতের দাবিগুলোকে সমর্থন জানানো হচ্ছে। নৌ-পথ, রেলপথে ট্রানজিট, এশিয়ান হাইওয়ের মাধ্যমে সড়ক পথে ট্রানজিট, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুবিধা প্রদান, এসব কোনোটাই বাংলাদেশের জন্যে ইতিবাচক নয়। এগুলোর সাথে এদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন জড়িত। তবে একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে যে ভারতীয় এসব দাবির প্রতি সরকার ইতিবাচক হলেও দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ জেগে উঠতে শুরু করেছে। সেই সাথে দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোও। বিএনপি'র মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, আমরা জাতীয় স্বার্থ তথা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ুক, এমন অবস্থায় বসে থাকবো না। আমরা দেশের মানুষকে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবো। দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন করবো। দেশের অপর একটি বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী টিপাইমুখ বাঁধ, এশিয়ান হাইওয়ের মত জাতীয় স্বার্থ বিরোধী ইস্যুতে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। জামায়াতের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে, জাতীয় স্বার্থবিরোধী, দেশের নিরাপত্তা হুমকীর মুখে পড়ে এমনটি হতে দেবে না। দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে প্রতিবাদ করবে। উল্লেখ্য, জামায়াত জাতীয় স্বার্থ বিরোধী এসব বিষয়ে জনমত গড়ে তুলতে সভা-সমাবেশ, সেমিনার করে যাচ্ছে। সরকারের শরীকদের মধ্যেও কেউ কেউ মুখ খুলতে শুরু করেছেন। জাপা'র একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, আমরা দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো কাজ সমর্থন করি না। এছাড়াও অন্যান্য দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে

টিপাইমুখের বাঁধ -ব্যারেজ আরেকটা ফারাক্কা হবে

টিপাইমুখের বাঁধ -ব্যারেজ আরেকটা ফারাক্কা হবে
'বাঙ্গালকে হাইকোর্ট দেখানো' হচ্ছে
টিপাইমুখের বাঁধ -ব্যারেজ আরেকটা ফারাক্কা হবে
ভারত বরাক নদীর ওপর টিপাই মুখে বাঁধ ও হাইড্রোইলেট্রিক প্রকল্প একই সাথে বাস্তবায়ন করছে। এতে করে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন যা বলেছেন, তা ঠিক নয়। তার কথা অনেকটা ?বাঙ্গালকে হাইকোর্ট দেখানো'র মত। পিনাক রঞ্জন বলেছেন, বাঁধ ও ড্যাম তথা হাইড্রোইলেট্রিক প্রকল্প হলে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না। আর তার এই বক্তব্য হজম করে নিলেন পানি সম্পদ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী।
টিপাইমুখ বাঁধ হলে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৭টি জেলা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জেলাগুলো হচ্ছে- সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, বি'বাড়ীয়া। অত্র অঞ্চল থেকে প্রতি বছর ৭৫ থেকে ৭৮ লাখ টন বোরো ফসল আসে। এই বাঁধ ও ড্যাম হলে বোরো ফসলে ধস নামবে। বরাক একটি খরস্রোতা নদী। তাই বাঁধের পাশা-পাশি বিদ্যুৎ প্রকল্পও হাতে নিয়েছে ভারত। এই নদী বাংলাদেশের সুরমা ও কুশিয়ারা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নদীতে মিশেছে। আর মেঘনা হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম গতিশীল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ ত্রি-জলধারার একটি। বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ভুটান ও নেপাল- এই ৫টি দেশে ১.৭ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা এই ৩টি নদীর গতিপথ। মেঘনা অববাহিকারউপরিতলের সমস্ত পানি বরাক, সুরমা ও কুশিয়ারা নদী-বাহিত হয়ে মেঘনা নদীর সৃষ্টি করে নিচের তথা ভাটি এলাকার পদ্মা নদীতে মিশে সবগুলো নদীর মিলিত স্রোত পরে বাংলাদেশের আরো দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। এই জলধারার উজানেই ভারত বাঁধ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে। এটি হচ্ছে ভারতের অন্যতম বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে বাংলাদেশ স্থায়ীভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। অথচ সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা বলছেন, বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। গত মঙ্গলবার সরকারের মন্ত্রীরা বলেছেন, এই বাঁধ ও ড্যাম হলে না-কি মেঘনা, কুশিয়ারা, সুরমা নদীর ক্ষতি হবে না। একজন মন্ত্রীকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন যে, এই বাঁধ ও ড্যাম করলে ফারাক্কার মত চুক্তি করে পানি আনবেন? উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ?না, এমন কিছু হবে না।' বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিপাইমুখ বাঁধ ও ড্যাম নির্মাণ করে ভারত আরেকটি ফারাক্কার সৃষ্টি করছে। বর্ষায় ভারত বাংলাদেশকে ডুবিয়ে মারবে, শুষ্ক মওসুমে শুকিয়ে মারবে। ফসল তথা আর্থিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়ও নেমে আসবে। বাংলাদেশের নদ-নদী ভরাট হয়ে যাবে, ফসলী জমি নষ্ট হবে। মূলত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।
ভারত যখন এই বাঁধ ও ড্যাম নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা একে অপরের উপর দায় চাপিয়ে বসে আছেন। গত মঙ্গলবার নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেছিলেন যে- এটা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে; আর পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, এটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ।
গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়- টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতের সাথে এই মুহূর্তে যোগাযোগ করারও সম্ভাবনা নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মণি এখন ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে আছেন। তিনি ২৭ মে' দেশে ফিরবেন। এর আগে হয়তো বলা যাবে না কি হয়। উল্লেখ্য, ১৪ মে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ৪ দিনের সরকারি সফরে মিয়ানমার গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তিনি ব্যক্তিগত সফরে লন্ডন চলে গেছেন। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতের সাথে আলোচনার বিষয়ে সরকারের উপরের মহল থেকেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপর কোনো নির্দেশনা নেই।

টিপাইমুখ বাধ বাংলাদেশের জন্য সুবিধা (???)

টিপাইমুখ বাধ বাংলাদেশের জন্য সুবিধা (???)
গতকাল রাতে(২১ শে মে) চ্যানেল ওয়ানে এক টকশোতে অতিথী হিসেবে ছিলেন বিগত আওয়ামী সরকারের মাননীয় পানিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে আলোচনার বিষয় ছিল টিপাইমুখ বাধ। এবিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ কি? -উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- আলোচনা হচ্ছে। আর আলোচনার মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান করা হবে, যেমনটি ওনারা করেছেন গঙ্গা পানি চুক্তির ক্ষেত্রে। এছাড়া উনি এও বলেছেন- টিপাইমুখ বাধে যে পাওয়ার প্লান্ট হবে সেই বিদ্যুৎ বাংলাদেশও পেতে পারে। কাজেই এটা বরং বাংলাদেশের জন্য ভালই।
গঙ্গার পানি চুক্তির পরও বাংলাদেশ প্রাপ্য মোতাবেক পানি পাচ্ছেনা কেন- এ প্রশ্ন করা হলে ওনি বলেন, চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশ যতটুকু পানি পাওয়া উচিত ঠিক সেভাবেই পানি পাচ্ছে বরং কখনও কখনও চুক্তির চেয়ে বেশি পানি পাচ্ছে।
টিপাইমুখে বাধ হবে না ব্যারাজ হবে এ নিয়ে নাকি দিধা-দ্বন্দ আছে এমন একটি তথ্য উপস্থাপক দিলে জনাব আব্দুর রাজ্জাক গবেষকদের মোটামুটি ধুয়ে ফেলেছেন। বলেছেন- যারা গবেষণা করছেন তারা কেবল অনুমানের উপর ভিত্তি করে এ প্রোজেক্টের বিরোধিতা করছেন। উনি উপদেশ দেন- সঠিক তথ্য জেনে তারপর গবেষণা করুন। গবেষণা করলে অনেক কিছু জানতে হয়।
বাধ হলে আমাদের দেশের বড় একটা জনগোষ্ঠির জনজীবন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে কিনা এ ব্যাপারে উনার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন- বাধ করে তো ভারত পানি আটকে রাখতে পারবে না, তাদেরকে পানি ছেড়ে দিতে হবে। পানি ছাড়লেই তো বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, আটকে রাখলে তো হবে না। কাজেই আমরা পানি পাবনা এ ধারনা ঠিক না। হয়তো পানির প্রবাহ কিছুটা কমবে কিন্তু তাতে আমাদের কোন অসুবিধা হবে না। তাছাড়া বাধ করা হবে বাংলাদেশের সীমানা থেকে ১০০ কিলো মিটার দূরে। যদি অসুবিধা হয়ই তো সেটা আমাদের চেয়ে ভারতেরই বেশি হবে।
সরকার এ ব্যাপারে কোন পদপে নিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন- আমরা চাইলেই তো হঠাৎ করে একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারি না, তার জন্য আলোচনার একটা ক্ষেত্র দরকার। এখন সরকার আলোচনার সেই ক্ষেত্র তৈরি করছে। আর আলোচনা যে হচ্ছে সেটা তো দেখতেই পাচ্ছেন।
দেবশিশু বলেছেন: আমিও দেখেছি অনুষ্ঠানটা। উনার কথা ও বলার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল একজন ভারতীয় দেশপ্রেমিক নাগরীক তার অধিকার রক্ষার কল্পে ভাষণ দিচ্ছেন।

জেল জুলুমের ভয়ে চুপসে থাকলে দেশ বাঁচানো যাবে না

জেল জুলুমের ভয়ে চুপসে থাকলে দেশ বাঁচানো যাবে না
আহসান মোহাম্মদ
সর্বশেষ বিএনপি সরকার ও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম একশ দিনের তুলনা করলে এই দুই আমলের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বিএনপি সরকারের মূল ফোকাস ছিল আইন-শৃংখলা ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি। অপরদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে প্রতিবেশী দেশের নানাবিধ দাবী ও প্রত্যাশা পূরণ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মুল করা। বিএনপি আমলে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই মারমুখী ভূমিকা নিয়েছিল। সেই সরকারের প্রথম দিন থেকেই সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলা হয়েছিল এবং সরকারের দুই মাস না পুরতেই দুইবার হরতাল দেয়া হয়েছিল। অপরদিকে এখন পর্যন্ত বর্তমানের প্রধান বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনমূখী তেমন কোন তৎপরতা চোখে পড়ছে না।

বর্তমানে দেশবিরোধী পরিকল্পনাগুলো অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে সরকারের তাড়াহুড়ো এবং এক্ষেত্রে বিরোধীদলের অনেকটাই নীরব ভূমিকা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে মারাত্মক শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। সকলেই স্বীকার করবেন, এই সরকারের ক্ষমতায় আরোহণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ঘটেনি। জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তার নির্দেশে জরুরী অবস্থা জারি করে জাতীয়তাবাদীকে নেতাদেরকে গণহারে গ্রেফতার, সরকার ও নির্বাচন কমিশন কতৃক প্রকাশ্যে বিএনপিকে ধ্বংস করার সকল চেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর পূত্র ও উপদেষ্টা কতৃক ইরাকে গণহত্যায় নেতৃত্বদানকারী একজন মর্কিন সেনার সাথে বাংলাদেশকে সেক্যূলার রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা লিখিতভাবে প্রকাশ, শেখ হাসিনার রিচার্ড বাউচারের সাথে সাক্ষাৎ এবং বুশের নিন্দিত �সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের� প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানানো এবং সর্বশেষে নিরাপত্তাবাহিনীর হস্তক্ষেপে একটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে অবিশ্বাস্য বিজয় এনে দেয়া হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরাশক্তির সাথে চুক্তির ভিত্তিতেই সরকারকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে এবং ক্ষমতাশীন হবার প্রথম দিন থেকেই সরকার সেই চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রকাশ্য ভূমিকা নিয়েছে এবং বিভিন্ন কর্মকান্ড জোরে সোরে শুরু করেছে। সেসব কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে,

১. ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে ক্ষমতাশীন দলের মন্ত্রী, এমপি ও স্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় বিডিআর বিদ্রোহ সংঘটিত করে সেনাবাহিনীর ৬৪ জন সেরা অফিসারকে হত্যা করা ও তাদের পরিবারের নারী সদস্যদেরকে গণধর্ষণ করার মাধ্যমে একদিকে যেমন নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর পরস্পরের মধ্যে ঘৃণা ও অবিশ্বাস তৈরী করা হয়েছে, তেমনি তাদের মনোবলও ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এখন এই ঐতিহ্যবাহী বাহিনীকে ভেঙ্গে রক্ষী বাহিনীর আদলে এক বা একাধিক বাহিনী তৈরী করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি হচ্ছে জয়ের পরিকল্পনার �সেকুল্যার সেনাবাহিনী� তৈরীর প্রথম ধাপ।

২. পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে একদলীয় শাসনে ফিরে যাওয়া এবং সংবিধানের মূলনীতি �আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস� কে ধর্মনিরপক্ষেতা দিয়ে প্রতিস্থাপন করার উদ্দেশ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আইনী লড়াই শুরু করা হয়েছে।

৩. ভারত দীর্ঘদিন ধরে টিপাইমুখ বাধ তৈরীর চেষ্টা করে আসছে। এতোদিন বাংলাদেশের তীব্র বিরোধিতার কারণে তারা এ কাজে সফল হতে পারে নি। বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা এ বাধ নির্মানের পক্ষে ওকালতি পর্যন্ত করছেন। টিপাইমুখ বাধ নির্মিত হলে সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হবে।

৪. সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতকে ট্রানজিটের নামে করিডোর দেয়ার পক্ষে মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে কথা বলছেন। একবার করিডোর দেয়া হলে বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে নিপতিত হবে যার পরিণতিতে দেশের স্বাধীনতাও বিপন্ন হতে পারে। এক দেশের ব্যবসা, জাহাজ, নাগরিক ইত্যাদি রক্ষার জন্য ভিন্নদেশ আক্রমণ করার নজীর পৃথিবীতে কম নেই।

৫. ভারতের সাথে যৌথ নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনার কথাও সরকারের মন্ত্রীরা জোরে সোরে বলছেন এবং এর জন্য প্রস্তুতি চলছে বলে জানানো হচ্ছে। এই ধরণের টাস্কফোর্স গঠিত হলে জঙ্গী দমনের অযুহাতে যেকোন মুহুর্তে বাংলাদেশে প্রতিবেশী দেশের সৈন্য প্রবেশ করবে।

৬. তালপট্টির মালিকানা স্থায়ীভাবে ভারতকে দিয়ে দেয়ার তোড়জোড় ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। দ্বীপটির উপর মালিকানা দাবী করে জাতিসংঘে যাচ্ছে ভারত। বাংলাদেশ সরকার এক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

৭. সরকার তার বি-ইসলামীকরণ পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সংবিধনের মূলনীতি থেকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস তুলে দেয়ার জন্য সরকার আদালতে গেছে। আইন মন্ত্রী কওমী মাদ্রাসাগুলোকে জঙ্গী প্রজননকেন্দ্র আখ্যা দিয়েছেন। এই সরকারের নিয়োগকৃত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি ফতোয়া দিয়েছেন যে, একমাত্র ইসলাম ধর্মেই জঙ্গীবাদ রয়েছে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে ধ্বংস করার জন্যও সরকার বিভিন্নভাবে চেষ্টা শুরু করেছে।

৮. সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করা, অন্ততঃ পক্ষে তার বাংলাদেশ স্বপক্ষ চরিত্র নষ্ট করে তাকে ভারতপন্থী, ইসলাম বিদ্বেষী ও বিদেশী শক্তির আজ্ঞাবাহী বাহিনীতে পরিণত করার কাজটি সম্পন্ন করার দিকে সরকার এগিয়ে যাচেছ। এক্ষেত্রে বর্তমানে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিদেশী শক্তির নির্দেশে অভ্যূত্থান ঘটানো ও তা সেনাপ্রধান কতৃক বই লিখে বিশ্ববাসীকে জানানো, বিডিআর এর একজন সাবেক মহাপরিচালকের ট্রানজিট দেয়ার পক্ষে জোরালো যুক্তি দেখিয়ে ডিফেন্স জার্নালে প্রবন্ধ লেখা এবং সাম্প্রতিককালে সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন হোটেলের একটি অনুষ্ঠানে দেশের গণ্যমান্য ব্যাক্তিদেরকে দাওয়াত করে শুকরের মাংশ খেতে দেয়া দেখে এ বিষয়ে কিছু ধারণা করা যায় বৈকি।

বলা বাহুল্য যে এই সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রধানমন্ত্রীর দিনবদলের শ্লোগান সত্যি সত্যিই বাস্তবায়িত হবে। শুধু দিনই বদলাবে না, পুরো দেশটার খোল-নলচে বদলে যাবে যার পরিণতিতে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমরা সিকিমের মত একটি প্রদেশের �সৌভাগ্যবান� নাগরিকের মর্যাদা পাবো।

এই সকল বিষয় উপলব্ধি করেই বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনের প্রাক্কালে �দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও� শ্লোগান দিয়েছিলেন। তাঁর সেই আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু, দেশ বাঁচাতে যে ধরণের গণআন্দোলন প্রয়োজন, তার জন্য কোন প্রস্তুতির আলামত দলটির মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। অপরদিকে চারদলীয় জোটের অন্য প্রধান শরীক জামায়াতে ইসলামীকে সরকার যুদ্ধাপরাধী থেরাপি দিয়ে সাফল্যের সাথে চুপসে ফেলতে পেরেছে। সরকার তার দেশবিরোধী কর্মকান্ডগুলো দ্রুত শেষ করে ফেলতে চাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান দুটি বিরোধী দল যদি গা বাঁচিয়ে চলার পথ বেছে নেয়, তাহলে দেশকে বাঁচানো যাবে না, তারা নিজেরাও বাঁচতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে যত দ্রুত সম্ভব নিম্নলিখিত তিনটি পদক্ষেপ নিতে হবেঃ

১. বিএনপিকে হাইবারনেশন থেকে জেগে উঠতে হবে। পল্টন ময়দানের সমাবেশ প্রমাণ করে দলটির প্রতি জনগণের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা সক্রিয় হলেই সরকারের দেশবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রবল গণআন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব। যেহেতু দলটির মাহসচিব অসুস্থতার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর করে নেতা-কর্মীদেরকে উজ্জীবিত করতে পারছেন না, অন্য কেন্দ্রীয় নেতাকেরকেও বিভিন্ন কারণে উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না, তাই খালেদা জিয়াকেই এই দায়িত্ব নিতে হবে। নির্বাচনের প্রাক্কালে সারাদেশ তিনি যেভাবে চষে বেড়িয়েছেন, আবার সেভাবে ছুটে বেড়াতে হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে তিনি যদি বিভাগীয় শহরগুলো সফর করতে পারেন, তাহলে দলকে দ্রুত চাঙ্গা করে তুলতে পারবেন এবং সরকারের দেশধ্বংসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে পারবেন। এই সফরেই তিনি হয়তো নতুন নেতৃত্বও খুঁজে পাবেন।

২. জামায়াত নেতাদেরকে জেলের ভয় জয় করতে হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে যথেষ্ঠ মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন এবং এই ভয়ে কোন বড় ধরণের গণআন্দোলনে যেতে চাইছেন না। একই ধরণের ভয়ের কারণে দলটি তত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলনে যায় নি। এতে তাদের যে কোন লাভ হয়নি, তা নিশ্চয় এতোদিনে তারা বুঝতে পেরেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে এই সরকার সবথেকে খারাপ কি করতে পারে? বড়জোর দলটির শীর্ষ নেতাদের কয়েকজনকে জেল দেয়া হবে। বাংলাদেশে জেল-জুলুম ছাড়া রাজনীতিতে সফল হতে পেরেছেন কয়জন? রাজনীতি করবেন, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবেন, আর ক্ষমতাশীনেরা আপনাদের পথে গোলাপ পাপড়ি বিছিয়ে রাখবে, তা কিভাবে সম্ভব! তাছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে দলটির নেতাদেরকে দলে দলে জেলে ঢুকানো যে খুব সহজ কাজ নয়, তা এতোদিনে সরকারের কার্যক্রমে কিছুটা হলেও প্রমাণিত হয়েছে। দলটির যে ১৫-২০ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে, বিশাল কর্মীবাহিনী রয়েছে, তারা কি বসে থাকবে? এই দলটি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসারে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ফলে দলটিকে নির্মূল করতে চাইলে মুসলিম বিশ্ব থেকে চাপ আসতে পারে। ক্যাঙ্গারু কোর্টের বিচারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এগিয়ে আসবে। যেভাবে জমা-জমি নিয়ে বিরোধ, গ্রাম্য দলাদলি বিভিন্ন কারণে গ্রামে গ্রামে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা শুরু হচ্ছে, তাতে খুব শীঘ্রই এটি সামাজিক অস্থিরতার নতুন উপাদানে পরিণত হবে, যা শাসক দলের জন্য সুখকর হবে না। দলটি তো বলে থাকে, কারো জেল-ফাঁসি দেয়ার মালিক আল্লাহ, মানুষ নয়। তারা যদি সত্যিই কথাগুলো বিশ্বাস করেন, তাহলে তাদের উচিৎ জেল-জুলুমের ভয়ে ভীত না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে ইসলাম ও বাংলাদেশের স্বার্থে আন্দোলনে নেমে পড়া।

৩. চারদলীয় জোটকে অতি দ্রুত সক্রিয় করতে হবে। আওয়ামী লীগের দেশ বিরোধী কর্মকান্ড ও পরিকল্পনাকে প্রতিহত করে দেশকে বাঁচাতে হলে জোটবদ্ধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। ছত্রভঙ্গ বিএনপির পক্ষে একা কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলা কঠিন। বিএনপির জনসমর্থন রয়েছে, জামায়াতের রয়েছে সাংগঠনিক শক্তি। সাধারণ জনগণের মধ্যে ধর্মভিত্তিক অন্যন্য দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। সাথে ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী অন্যান্য দলগুলোকে নিয়ে জোটকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। টিপাইমুখ বাধ নির্মানের বিরুদ্ধে চারদলের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে সিলেট অভিমুখে লংমার্চের আয়োজন করতে হবে।

বাংলাদেশ তার ইতিহাসের সবথেকে কঠিন সময় পার করছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাইয়ে দেয়া হয়েছে, তা অদূর ভবিষ্যতে আর সম্ভব নাও হতে পারে। প্রতিবেশী দেশটি এই সুযোগের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করতে চাইবে। বাংলাদেশকে এমন স্থানে নিয়ে যেতে চাইবে যেখান থেকে আর কখনো সে তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ফিরে না আসতে পারে। এ উদ্দেশ্যে যা যা করা দরকার, তা সরকারের প্রথম বছরেই করে ফেলা হবে। এই অশুভ চক্রান্ত রুখে দেয়া না গেলে বাংলাদেশ বাঁচবে না, বিএনপি-জামায়াতের নেতারাও বাঁচবেন না। সময় ক্ষেপন না করে জেল-জুলুমের ভয় উপক্ষো করে তাদেরকে এখনই শক্তিশালী গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

টিপাইমুখ আরেক মরণ ফাঁদ্‌

লিখেছেনঃ মাসুদুর রহমান (৯৬-০২)
বরাক একটি আন্তর্জাতিক নদী। প্রায় পনের বছরের অধিক সময় ধরে ভারত বরাক নদির উপর টিপাইমুখ বাধ দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে। স্থানীয় জনগণের বিরোধিতা মুখে তারা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পারছিলোনা। অতিসম্প্রতি তারা টিপাইমুখ বাধ নির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু করে দিয়েছে।
ভুমিকা
টিপাইমুখ বাধ যে নদিতে দেওয়া হবে তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। উজানের দেশ ভাটির দেশের সাথে আলোচনা ব্যতীত আন্তর্জাতিক নদী হতে পানি প্রত্যাহার বা বাধ স্থাপন করতে পারেনা। টিপাইমুখ বাধ পরিকল্পনা নিশ্চিত রুপে আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী, কেননা
আন্তর্জাতিক নদির দায়িত্বসমুহ হচ্ছে
#সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের অনুমতি ব্যতীত কুনো রাষ্ট্র একক সিদ্ধান্তবলে নদির গতিধারা পরিবর্তন করতে পারবে না।
#কোনো আন্তর্জাতিক নদির গতিধারা যদি কোনো রাষ্ট্র একতরফা পরিবর্তন করে এবং তদুপরি অপর কুনো তীরবর্তি রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় সাধিত হয়, তবে এর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র খতিকারক রাষ্ট্র হতে ক্ষতিপূরণ পাবে।
#আন্তর্জাতিক নদির ক্ষেত্রে সকল আন্তর্জাতিক কনভেনশন, সম্মেলন এবং চুক্তি প্রাধান্য পাবে।
নদির গতিধারা ও প্রকৃতি
বরাক নদির উতপত্তিস্থল মূলতঃ মনিপুরের উত্তর সেনাপতি জেলার লিয়াই গ্রামে। বরাক নদী উতপত্তিস্থল হতে ক্ষীণ ধারা প্রবাহিত হয়ে কারং এর নিকট এসে তীক্ষ্ণ ধারায় প্রবাহিত হয়। প্রবাহিত ধারার সাথে কতিপয় পার্বত্য নদী বরাক নদির জলধারাকে সমৃদ্ধ করে। এসব নদির মাঝে উল্লেখযোগ্য নাম হল তুবাই নদী। বরাক নদী শুষ্ক মৌসু্মে শান্ত ভাবে প্রবাহিত হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে টানা ৩/৪ দিন বৃষ্টি হলেই নদিটি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে।
টিপাইমুখের অবস্থান - ভূখণ্ড দিক হতে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত হতে ১০০ কি মি দূরে মনিপুর প্রদেশের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে আবার জলভাগ হতে বললে তুবাই এবং বরাক নদির সংগম স্থান হতে ৫০০ মিটার ভাটিতে অবস্থিত।
সময়সীমা - ভারত হতে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১২। ভারত ২০০৭ সালে এর কাজ শুরু করতে চেয়েছিল। অর্থাৎ আমরা প্রাথমিক কাজ শুরু হওয়ার ২৬ মাস পর চীৎকার চেঁচামেচি করছি। project monitor 2nd edition December 2007 এ প্রকাশ মণিপুর প্রাদেশিক সরকারের সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের চুক্তি এবং সংলগ্ন প্রদেশ মিজোরাম ও আসাম সরকারের নিকট হতে অনুমতি ছাড়পত্র(NOC = no objection certificate) চুক্তি স্বাক্ষর সম্পাদিত হয়েছে। এখন আমাদের ভারতকে এই প্রকল্প হতে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।
প্রাক্কলিত ব্যয় = ১.৩৫ বিলয়ন ডলার।
স্থাপত্য কৌশল = ১৬২.৮ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট ১৬০ টি সুবৃহৎ বাধ নির্মাণ করা হবে। এখানে ২ টি তানেল থাকবে যা ভাটি হতে ১.৭ কি মি দূরে তৈরি করা হবে। এই পরিকল্পনায় ৬ টি ইউনিট থাকবে। এই পরিকল্পনার পানি ধারণ ক্ষমতা হবে ৪৮৩২৫ কিউবিক মিটার।
উদ্দেশ্য = ১৫০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন।
উভয় দেশের যে সকল সমস্যা বা বিপর্যয় হতে পারে =
#শুধু বরাক নদী নয় বরং ইরাং - বরাক - তুবাই - ঝিরি - মাকরু জলভাগে চিরস্থায়ী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।
#বাংলাদেশের ৩৫০ কিমি দীর্ঘ সুরমা এবং ১১০ কিমি দীর্ঘ কুশিয়ারা নদির জলপ্রবাহ কমে যাবে। দীর্ঘমেয়াদে নদী দুইটি মারা যাবে।
#কৃষি পরিবেশ এবং জলবায়ুতে পরিবর্তন হবে। এছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং মিথেন ও গ্রীন হাউজ এফেক্ট এর সম্ভাবনা অনেক বেশী বৃদ্ধি পাবে।
#বর্ষা মৌসুমে যখন পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে তখন এই অতিরিক্ত পানি উজান এবং ভাটি উভয় দেশের জন্য মারাত্মক বন্যার সৃষ্টি করবে।
#বাংলাদেশের মোট জলভাগের ৮ ভাগ আসে বরাক হতে। আর এই পানির উৎস যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা আমাদের অস্বিত্বের জন্যও হুমকি স্বরূপ।
#টিপাইমুখ যে স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে তা মূলতঃ ভুমিকম্পনপ্রবন এলাকা। আর নদিতে বাধ নির্মাণ করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলে ভূমিকম্প আশঙ্কা আর বেড়ে যায়। কারণ এতে ভূগর্ভস্থ প্লেটের অবস্থান নাজুক হয়ে পরে। আর কোনো কারণে যদি ভূমিকম্প হয় এবং নদির গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যায় তবে বাংলাদেশের নগর, গ্রাম এবং জান মালের ভয়াবহ ক্ষতি হবে।
টিপাইমুখ বাধ নির্মাণ বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা সমূহ
IWM (institute of water modeling) একটি গবেষণা শেষে যে রিপোর্ট প্রকাশ করে সেখানে ৬ প্রকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়। যেমন পানি সম্পদে প্রভাব, জীববৈচিত্রে প্রভাব, স্বাভাবিক বন্যায় প্রভাব, হাওড় ও তদসংলগ্ন জলাভুমিতে প্রভাব, পানির গুণগত পরিবর্তনে প্রভাব এবং অন্যান্য সাধারণ প্রভাব।
জীববৈচিত্রে প্রভাব=
এই বাধের ফলে উচুমাত্রায় ভুমি ক্ষয় হবে। আর এই ক্ষয়ের মাত্রা বাদ হতে ভাটিতে ১০০ কি মি বা তা ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রাথমিকভাবেই বাধ নির্মাণের ফলে ১০০ হতে ১৫০ কি মি পর্যন্ত নদিতে পলি জমে থাকার আশঙ্কা আছে। এর ফলে নদী তার নাব্যতা হারাবে। সুরমা কুশিয়ারা বর্ষা বা শুষ্ক মৌসুমে এই পলি জমার পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে।
এই পলি জমাট নদীগর্ভের উচ্চতা হ্রাস করবে। এবং বর্ষা মৌসুমে দুকুল ছাপিয়ে বন্যা প্লাবিত হবে। এবং তখন বর্তমান বিপদ সীমার অবস্থায় প্রচুর বন্যা হবে। আর ভয়ঙ্কর বন্যা হওয়ার পরিমাণ যাবে বেড়ে। এতে কৃষি, বন সহ জীববৈচিত্র বিনষ্ট হবে।
পানি সম্পদে প্রভাব=
IWM একটি সমীক্ষা ধারণা করেন যে টিপাইমুখ পরিকল্পনা পুর্নভাবে কার্যকর থাকলে সুরমা,কুশিয়ারা ও মেগনা অববাহিকায় জুন মাসে ১০%, জুলাই মাসে ২৩%, আগস্ট মাসে ১৬%, এবং সেপ্টেম্বর মাসে ১৫% পানি প্রবাহ কমে যাবে। কুশিয়ারা নদিতে আমলশিদ স্টেশন, ফেঞ্চনঞ্জ, শেরপুর, মারকুলি স্টেশনে পানির উচ্চতা কমে যাবে যথাক্রমে ১ মিটার, ০.২৫ মিটার, ০.১৫ মিটার, ০.১ মিটার পর্যন্ত। অপরদিকে কানাইরগাট সুরমা নদির সিলেট স্টেশনের পানির উচ্চতা কমে যাবে যথাক্রমে ০.৭৫ মিটার এবং ০.২৫ মিটার পর্যন্ত।
ভারতীয় হাই কমিশনারের বক্তব্য এবং স্ববিরোধিতা
পিনাকী রঞ্জন চক্রবর্তী বললেন টিপাইমুখ বাধ নির্মাণ করা হবে বরাক নদির বুকে আড়াআড়ি ভাবে। তবে এই প্রকল্পের কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
হাস্যকর কথা আড়াআড়ি ভাবে বাধ নির্মাণ যাকে বলা হয় ব্যারেজ নির্মাণ করা হলে পানি প্রবাহ অবশ্যই বাধাগ্রস্থ হবে। এবং বরাক নদির ভাটির দেশ হিসাবে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খুবই সহজ কথা। এর জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নাই।
পিনাকী আরও বলেছেন টিপাইমুখ প্রকল্প হতে উৎপাদিত বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত বাংলাদেশ পেতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে।
পরবর্তিতে ভারতীয় এক প্রতিনিধিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর করলেন বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে বিদ্যুত পরিবাহী কোনো মেকানিজম নাই। এটি পিনাকির বক্তব্যের বিরোধীতার শামিল।
পিনাকি টিপাইমুখ বাধের বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন এটি ফারাক্কার মত ইরিগেশন প্রজেক্ট নয় যা বাংলাদেশের ক্ষতি করবে।
তাকে ধন্যবাদ তিনি স্বীকার করেছেন ফারাক্কা আমাদের দেশের ক্ষতি করছে। তাই আমরা ফারাক্কার একটি ন্যায় সঙ্গত সমাধানের পরই আমরা টিপাইমুখ নিয়ে ভারতের সাথে আলোচনা করতে পারি। আমাদের দাবি আগে ফারাক্কার সমাধান পরে টিপাইমুখ প্রকল্পের আলোচনা।যখন ফারাক্কা নিয়ে আমরা আমাদের সমস্যার কথা ভারত কে জানাব। তখন এই পিনাকিই বলবেন ভারত বাংলাদেশকেতার ন্যায্য হিস্যা হতে বেশী পানি দিচ্ছে।
১৯৬০ সালে ফারাক্কা নির্মাণের পূর্বে এবং পরে চালু করার পূর্বে এমন করেই বলেছিলেন ফারাক্কা বাংলাদেশের ক্ষতি করবেনা। যদি করে তবে তারা বাংলাদেশের আপত্তি করা মাত্র এই প্রকল্প বন্ধ করে দিবেন। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখলাম উলটো। ফারাক্কা আমাদের ক্ষতি করছে। আমরা বার বার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তারা একটি সম্মানজনক চুক্তির জন্যও প্রস্তুত ছিল না। ১৯৯৬ সালে একটি বৈষম্যমুলক চুক্তি হলেও তারা তাও মানছেন না। এক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না। আমরা টিপাইমুখ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ভারতের কাছে আরও অসহায় হয়ে যাব।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া
শিপিং মিনিস্টার আমিন বলেছেন যদি পানি প্রবাহ বন্ধ করা হয় তবে বাংলাদেশ অবশ্যই আপত্তি জানাবে। আমরা ঘটনা নিবীড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এই প্রকল্প কখনো বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকারক হবে না। তার কথা শুনে আমার মনে হচ্ছে তিনি কি বাংলাদেশের মন্ত্রী নাকি ভারতের।
রমেশ চন্দ্র সেন বলেছেন ঢাকা জানে সেখানে একটি পানি বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। কোন বাধ বা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নাই। তবে বাধ নির্মাণের ফলে যদি বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে অবশ্যই বাংলাদেশ আপত্তি জানাবে। তিনি কেন মন্ত্রানালয়ে বসে আছেন! তার উচিত কোনো লাইব্রেরিতে গিয়ে বসে থাকা। তাহলেও তিনি কিছু জানতে পারবেন। কতটুকু হাস্যকর তার মন্ত্রানালয় হতে বেরিয়ে পিনাকি সাহেব সাংবাধিকদের জানালেন যে বাধ হবে। কিন্তু তাকে জানানোটা প্রয়োজনবোধ করলেন না। তবে কি পিনাকি ও সেন সাহেব ঘরে বসে তাস খেলছিলেন নাকি কোনো প্রমোদ আলাপনে ব্যস্ত ছিলেন।
আংশিকারে সামগ্রিক মূল্যায়ন(ব্যক্তিগত)
ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের স্ববিরোধীতা দেখিয়ে এবং রমেশ চন্দ্র সেন সহেব এবং মিস্টার আমিন সাহেবের বক্তব্যের হালকা সমালোচনার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সামগ্রিক ভাবে বলতে হলে আমার মনে হয়েছে আমাদের সরকার উদাসীন। আর সরকারের এই উদাসিতা ভারতকে অনেক বেশী আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। তারা সরকারের সামনে মুলা ঝুলিয়ে কাজ আদায় করে নেওয়ার সহজ পাঁয়তারা করছে। অনেক সুশীল সমাজ নিশ্চুপ তারা হয়ত ভারত সরকার হতে কিঞ্চিত সুবিধা প্রাপ্ত। আসলে আমাদের ভারতের কাছে চাইবার কিছু নাই। আমরা যা চাই তা আমাদের দাবি; চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এসব আমাদের অধিকার। কিন্তু ভারত আমাদের কাছে চেয়ে আসছে সুবিধা। যারা আমাদের যৌক্তিক দাবি মানে না তাদের কাছ থেকে সুবিধা প্রাপ্তির আশা সম্পুর্নভাবে পরিত্যাগ করা উচিত। তাই তাদের সাথে নমনীয় নয় বরং আত্ববিশ্বাসের সাথে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্মুল্যায়ন করা উচিত।
আসাম এবং মিযোরামের অনাপত্তি পত্র প্রদানে মনে হয় বাধে জমিয়ে রাখা পানি প্রত্যাহার করে আসাম এবং মিজোরামে কৃষির জন্য ব্যবহার করা হবে। কিন্তু তারা এটা আপাতত প্রকাশ করবেনা। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তারা প্রকল্পের নকশার বা নির্মাণ কৌশলে ত্রুটির কথা বলে পানি জমিয়ে রাখা জলাধার হতে খাল খননের মাধ্যমে পানি অন্যদিকে সরিয়ে নিবে। এবং এই কাজ হইত তারা গোপনেই করবে। আমরা জানতেও পারবনা। আর আমাদের অভিজাত শ্রেণী তাদের আস্থাভাজন হয়ে এখন যেমন নির্লিপ্ত আছেন তখনও এমনি করে চোখ বন্ধ করে রাখবেন। (আমার অতিরিক্ত সন্দেহ বাতিক আছে) হয়ত এমনটা না ঘটতেও পারে।
সরকারের চাল চলন এবং ভারতের কূটনৈতিক প্রবনতা লক্ষ্য করে আমার মনে হয়েছে দুই পক্ষ মিলে জনগনকে তৃতীয় পক্ষ বানিয়ে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আমার সবথেকে আশর্চয্য লাগছে প্রধানমন্ত্রী এই টিপাইমুখ কে গুরুত্বের সাথে না নেওয়াকে। তার হস্তক্ষেপ এখানে খুব জরুরী। বিশেষতঃ টিপাইমুখ প্রকল্প তার এখতিয়ার অধিনে গ্রহণ করা জরুরী।
ভারত তিস্তামুখে বাধ নির্মাণ করে সেচ প্রকল্প গ্রহণ করেছে যার প্রভাবে উজানের দেশ বাংলাদেশের তিস্তা সেচ প্রকল্প চরম্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমাদের সরকার এ সম্পর্কে কিছু জানেন বলে আমার মনে হয়না। জানলেও এটা হয়ত confidential ভেবে চুপ করে বসে আছে। এরকম অনেক নদিতে ছোট ছোট খাল খনন করে পানি প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে ৫৩ টি অভিন্ন নদির প্রকৃত জলপ্রবাহ হতে বাংলাদেশ কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আর এসব কাজ তারা করেছে বাংলাদেশ কে না জানিয়েই।
করণীয়
যা আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে প্রলাপের মত আসল তাই লিখছি। আমার জ্ঞান করণীয় সম্পর্কে কিছু লেখার জন্য অতীব ক্ষুদ্র। (তাই ভুল কিছু লিখলে তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।)
# এই বাধ নির্মাণ বাংলাদেশ হতে মণিপুর আসাম এবং মিজ়োরামের সাধারণ মানুষ অনেক বেশী প্রতিবাদ মুখর। তাদের এই প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক মহলে প্রচার করার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ক্ষমতা নেই। ঠিক ১৯৭১ সালে আমরা আমাদের বঞ্চনার কথা যেমন বিশ্বমহলে জানাতে পারতাম না, ভারত আমাদের সাহায্য করেছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের কথাগুলো পৌঁছে দিতে তেমনি আমরাও পারি মনিপুর, আসাম, মিজোরামের আদিবাসীদের টিপাইমুখ বিরোধী আন্দোলঙ্কে আন্তর্জাতিক মহলে জানাতে সাহায্য করতে পারি। তবে এক্ষেত্রে ভারত আমাদের বিরুদ্ধে তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মদদ দেওয়ার অভিযোগ করবে। তাই আমাদের উচিত হবে বাংলাদেশি Diaspora কে ব্যবহার করে তাদের আন্দোলনের পক্ষে বিশ্বের নৈতিক সমর্থন আদায় করা।
# বাংলাদেশী Diaspora কে ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন পরিবেশবাদী আন্তর্জাতিক এজেন্সীগুলোর মাধ্যমে ভারতকে অব্যাহত ভাবে চাপ প্রয়োগ করা।
# আন্তর্জাতিক নদী কনভেশনের অমান্য অভিযোগে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হওয়া।
# WCD world commission on dam এর নিকট আমরা আমাদের আপত্তি পত্র জমা দিতে পারি। এরফলে wcd ভারত কে বাধ না নির্মাণ করার জন্য চাপ দিবে।
# বাধ নির্মাণ জন্য প্রয়োজন হবে ১৩৭ বিলয়ন ডলার। কোনো দাতা দেশ বা অর্থসংস্থানকারী আন্তর্জাতিক সংগঠন সমুহকে বুঝিয়ে আস্থায় আনা তারা যেন বাধ নির্মাণ অর্থ প্রদান না করে।
# মণিপুর, আসাম, মিযোরামের আদিবাসীদের কে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনারের উপস্থিতিতে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক আহ্বান করা।
# ভারত হতে উজানের দেশ যেমন ব্রম্মপুত্রের ক্ষেত্রে চীন, ও গঙ্গার ক্ষেত্রে নেপালের মত দেশ সমুহের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে ভারতকে টিপাইমুখ প্রকল্পকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করা।
#নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ, বার্মার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিবিড় করে ভারতের বিরুদ্ধে শক্তি সাম্য সৃষ্টি করা। যাতে পারস্পরিক আলোচনা বা সমঝোতায় ভারত bargaining power এর একক সুবিধা ভোগ না করতে পারে।
#যৌথ নদী কমিশন ব্যতীত অন্য কোনো ফোরামে টিপাইমুখ নিয়ে আলোচনা না করার জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
পরিশেষ
১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত যে কোনো উপায়ে উৎপাদন করা সম্ভব। তাপ, বায়ু, পরমাণু অথবা সৌর যে কোনো উপায়ে উৎপাদন করা যাবে। কিন্তু নদিটির মৃত্যু হলে পুনরায় কোনো উপায়ে নতুন বরাক নদী তৈরি করা সম্ভব হবে না। আরেকটি কথা একটি বাল্ব জ্বালানোর জন্য একটি গাছ নিধন কতটা যৌক্তিক। আমরা নতুন করে অনেক কিছুই তৈরি করতে পারব। কিন্তু পরিবেশ একবার বিনষ্ট হলে তা পুনর্দ্ধার করা সম্ভব হবে না। আর প্রকৃতি যখন প্রতিশোধ নেয় তা হয় নির্মম। সিডর হতে আইলা সময় অতিবাহিত হয়েছে মাত্র আড়াই বছর। কিন্তু আমরা আক্রান্ত হয়েছি ৬ টি ঘূর্ণিঝড়। সামনে আর ভয়াবহ পরিস্থিতি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তাই এখনি আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আর পরিবেশ বিপর্যয়কারী সকল প্রকার কর্মকাণ্ড হতে নিজেরা বিরত থেকে অপরকেও বিরত রাখার জন্য সর্বতোভাবে বাধা প্রদান করতে হবে।
তথ্যসুত্র
International law by ansar ali khan
http://onnesha.wordpress.com/2009/05/21/we-must-call-to-s
http://www.e-pao.net/GP.asp?src=22..310509.may09
http://nation.ittefaq.com/issues/2009/06/02/news0908.htm
https://lists.resist.ca/pipermail/indigenousyouth/2005-July/00045
http://www.theshillongtimes.com/
http://www.ccddne.org/
http://www.projectsmonitor.com/detailnews.asp?newsid=12408
http://www.independent-bangladesh.com/2009051910988/count

টিপাইমুখ বাধ ২য় ফারাক্কা

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীই আমাদের অর্থনিতির প্রান। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সকলদিক থেকে বাংলাদেশের বেচে থাকা নদীর উপর নির্ভর করে। আর সেই নদী শাসনের নাম করে বার বার ভারত বাংলাদেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিতে বার বার সকল সমস্যা ভারতের কাছে তুলে ধরা হলে ও তারা কোনসময় কোন কথাই কানে তুলেনি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবেশি ভারতের সাথে বিভিন্ন ব্যাপারে মতবিরোধ দীর্ঘদিন থেকে। ভারতের একতরফা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কিছু সিদ্ধান্তই এই তিক্ততার মুল কারন। বৃহত্তম এই প্রতিবেশির স্বার্থপরতায় প্রতিনিয়ত নিগৃহিত হচ্ছে বাংলাদেশ। ফারাক্কার বাধ তারই একটি সমসাময়িক উদাহরন। গত হাসিনা সরকারের আমলে পানি চুক্তি হলেও পানির ন্যায্য হিস্যা কোনদিন বাংলাদেশ পায়নি। ফারাক্বার অপরাপর ক্ষতিকর প্রভাবের কথা সবাই নিশ্চই অবগত আছেন। ফারাক্কার ঘা সুকোতে না সুকোতে এবার ভারত আরেক নতুন ফারক্কার সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।
ভারত বিদ্যুত উতপাদনের জন্য মনিপুর রাজ্যের টুপাই ও বরাক নামক নদীর সঙ্গমস্থলে একটি বাধ নির্মান করতে যাচ্ছে। এই বাধ নির্মান হলে উপরোল্লিখিত দুটি নদি ছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা ও কুসিয়ারার পানি প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। যার প্রভাবে বাংলাদেশে সিলেট ও অন্যান্য ৮টি জেলায় মরুকরন পক্রিয়া শুরু হবে। আর্সেনিকে আক্রান্ত বাংলাদেশের আর্সেনিক ভয়াভহ আকারে ধারন করা ছাড়াও পারিবেশিক ভারসাম্য নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই বাধে শুধু বাংলাদেশ নয় ভারতের মনিপুর ও কয়েকটি রাজ্যও দারুন ভাবে আক্রান্ত হবে, ভুমিহিন হবে হাজার হাজার মানুষ, ধ্বংশ হবে প্রাকৃতিক জিববৈচিত্র।
টিপাই বাধের পরিকল্পনা ৪০বছরের পুরোনো। গত ৪০বছরে ভারত বেশকয়েকবার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু বাংলাদেশে গনআন্দোলনের কারনে তা হয়ে উঠেনি। এবার ভারত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লেগেছে, ইতিমধ্যে তারা ( গত ১ই ফেব্রুয়ারি) দরপত্রের আহবান করেছে এবং ২৫শে নভেম্বর মনমোহন সিং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে যাচ্ছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুবিধা ১৬ আনা কাজে লাগানোর জন্য মনমোহন এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মৌখিক প্রতিবাদ করা হলেও ভারত তা কানে তুলেনি। বরংচ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিভাবে কোন কিছু না জানিয়েই বাধের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। বহুকাল আগ থেকে বাংলাদেশের বিশেষঅঞ্জ এবং বিভিন্ন সংঘঠন সরকারকে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার দাবি জানিয়ে আসলেও কোন এক অক্ষরের ঘুর্নিচক্রের প্রভাবে সরকার থেকে এপর্যন্ত কোন কার্যকারি ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি।
তাই বর্তমান নির্বাচিত সরকারগুলোর মুখাপেক্ষি না থেকে জনগনকে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যেরকম হয়েছিলো ১৯৯১ ও ১৯৯৪ সালে, সবাইকে সচেতন করতে হবে, যার দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে, আসুন বাংলাদেশের সার্থ এবং আসাম মিনপুরের হাজার হাজার মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে সচেতন হই।

সচেতনতা এবং দাবি আদায়ের দৃড় সংকল্পই এই অনাচারের অবসান ঘটাতে পারে। আসুন বাংলাদেশকে বাচাতে ঐক্যবদ্ধ হই।

বাধ প্রসঙ্গে মন্তব্য

বাধ প্রসঙ্গে মন্তব্যঃ

পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র শীল বলেছিলেন, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ভারতীয় পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বা তার মন্ত্রণালয়ের কাছে কোন তথ্য নেই। তিনি এও বলেছিলেন, বাঁধ নির্মাণ হয়ে গেলে বাংলাদেশ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবে।

বাণিজ্য মন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ফারুক খান বলেছেন, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে যারা বিরোধীতা করছেন বা বেশি কথা বলছেন, তারা অনেকেই না জেনেই বিরোধীতা করছেন।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী আফসারুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, "ফারাক্কার সময় আর এখনকার সময় এক নয়। এখন দিন অনেক বদলেছে। বাঁধ দিয়ে ফারাক্কার মতো পানি আটকানোর চেষ্টা করা হলে আমরাও বিষয়টি দেখবো। তবে এ প্রকল্পে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, "টিপাইমুখ হচ্ছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এখানে পানি বেশি সময়ের জন্য আটকে রাখা হবে না। সামান্য কিছু পানি আটকানো হলেও দ্রুতই তা ছেড়ে দেওয়া হবে। জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনেই এটি করা হবে। তাই এতে বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোন আশংকা নেই।

টিপাইমুখ বাধ দেয়া থেকে ভারতকে বিরত রাখতে না পারলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত-অধ্যাপক মোজাফফার অয়াহ্মেদ।
সংসদিয় কমিটি বাধ পরিদরশ্নের পর বাংলাদেশ তার প্রতিক্রিয়া জানাবে- প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনা।
খালেদা জিয়া বলেন, ''বাংলাদেশের আকাশে এখন শকুনের আনাগোনা চলছে। টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে এ দেশকে ধ্বংস ও শেষ করে দিতে চায়।

http://www.dailyinqilab.com/


অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, টিপাইমুখে বাঁধে বাধা দেয়া প্রত্যেক বাঙালির কর্তব্য।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভারতের টিপাইমুখেবাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টির প্রতিবাদ জানাবে সরকার। ঢাকায়বসবাসরত বৃহত্তর সিলেটের বাসিন্দাদের সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনেরএক অনুষ্ঠানে একথা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।




সমজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ বলেছেন, টিপাইমুখে বাঁধ হলে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মরভূমি হয়ে যাবে। একটি দেশ আরেকটি দেশকে এভাবে বাঁধ নির্মাণ করে ঠেকিয়ে দিতে পারে না। বাংলাদেশ সরকারের এ ব্যাপারে ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানানো উচিত।

টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণে বিএনপির আপত্তির কথা জানিয়ে সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ওই বাঁধ নির্মিত হলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এর ফলে মেঘনা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিপ্রবাহ হ্রাস পাবে, সৃষ্টি হবে মরুকরণ ও লবণাক্ততা। সিলেটের হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেছেন, এ বাঁধ নির্মিত হলে যে ভয়াবহ পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয় হবে সে বিষয়ে এ দেশের মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রথাগত কূটনীতির বদলে অর্থনৈতিক কূটনীতি অনুসরণ করে ভারতের সঙ্গে নদী ও পানিবিষয়ক সমস্যাদি সমাধান করার কোনো বিকল্প নেই। এ বাঁধ নির্মিত হলে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল শীতকালে শুষ্ক এবং বর্ষাকালে বন্যার কবলে পড়বে। একই সঙ্গে বাড়বে ভূমিকম্প ও সুনামির আশঙ্কা। তাই দেশের জনস্বার্থ রক্ষার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে ভারতের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানাতে হবে।

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রখ্যাত পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম মনোয়ার হোসেন বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মিত হলে মেঘনা বেসিনে পানি সরবরাহ কমে যাবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো মেঘনা অববাহিকা এলাকায়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশ কোনো নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ করতে চাইলে ভাটির দেশের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু এখানে তা হচ্ছে না। ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনেক পরে গঙ্গা চুক্তি হয়েছে। এটা ঠিক নয়। আগে আলাপ-আলোচনা করে নেয়া উচিত। তিনি বলেন, এখন মূল কাজ হচ্ছে এ বাঁধ নিয়ে লেখালেখি করা, বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে আনা। এর কোনো বিকল্প নেই।

অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অফ সাউথে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণারত জান্নাতুন নাহারের এক গবেষণা রিপোর্টে জানা গেছে, ভারতের মনিপুর রাজ্যের পাহাড় থেকে নির্গত হয়ে ৯৪৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বরাক, সুরমা, কুশিয়ারা, মেঘনার অভিন্ন নদীপ্রবাহ ভোলা জেলা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এর ২৭৭ কিলোমিটার ভারতের এবং বাকি ৬৬৯ কিলোমিটার বাংলাদেশের মধ্যে। ওই গবেষণা রিপোর্টে জানা গেছে, বাংলাদেশের ১/৬ অংশজুড়ে বিরাজমান উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল হাওরাঞ্চলে টিপাইমুখ বাঁধের কারণে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেবে, যা এক ফসলি হাওরাঞ্চলের কৃষিকে ধ্বংস করে ফেলবে। ভাটির দেশ হিসেবে শুধু বাংলাদেশই নয়, বরং এ প্রকল্পের ফলে খোদ ভারতেরই ২৭ হাজার ২৪২ হেক্টর বনভূমি বিনষ্ট হবে। আসাম, মনিপুর ও মিজোরামের ৩১১ বর্গকিলোমিটার ভূমি প্লাবিত হবে, যার অধিকাংশই আদিবাসী অধ্যুষিত।