টিপাইমুখ বাধ বাংলাদেশের জন্য সুবিধা (???)
গতকাল রাতে(২১ শে মে) চ্যানেল ওয়ানে এক টকশোতে অতিথী হিসেবে ছিলেন বিগত আওয়ামী সরকারের মাননীয় পানিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে আলোচনার বিষয় ছিল টিপাইমুখ বাধ। এবিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ কি? -উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- আলোচনা হচ্ছে। আর আলোচনার মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান করা হবে, যেমনটি ওনারা করেছেন গঙ্গা পানি চুক্তির ক্ষেত্রে। এছাড়া উনি এও বলেছেন- টিপাইমুখ বাধে যে পাওয়ার প্লান্ট হবে সেই বিদ্যুৎ বাংলাদেশও পেতে পারে। কাজেই এটা বরং বাংলাদেশের জন্য ভালই।
গঙ্গার পানি চুক্তির পরও বাংলাদেশ প্রাপ্য মোতাবেক পানি পাচ্ছেনা কেন- এ প্রশ্ন করা হলে ওনি বলেন, চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশ যতটুকু পানি পাওয়া উচিত ঠিক সেভাবেই পানি পাচ্ছে বরং কখনও কখনও চুক্তির চেয়ে বেশি পানি পাচ্ছে।
টিপাইমুখে বাধ হবে না ব্যারাজ হবে এ নিয়ে নাকি দিধা-দ্বন্দ আছে এমন একটি তথ্য উপস্থাপক দিলে জনাব আব্দুর রাজ্জাক গবেষকদের মোটামুটি ধুয়ে ফেলেছেন। বলেছেন- যারা গবেষণা করছেন তারা কেবল অনুমানের উপর ভিত্তি করে এ প্রোজেক্টের বিরোধিতা করছেন। উনি উপদেশ দেন- সঠিক তথ্য জেনে তারপর গবেষণা করুন। গবেষণা করলে অনেক কিছু জানতে হয়।
বাধ হলে আমাদের দেশের বড় একটা জনগোষ্ঠির জনজীবন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে কিনা এ ব্যাপারে উনার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন- বাধ করে তো ভারত পানি আটকে রাখতে পারবে না, তাদেরকে পানি ছেড়ে দিতে হবে। পানি ছাড়লেই তো বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, আটকে রাখলে তো হবে না। কাজেই আমরা পানি পাবনা এ ধারনা ঠিক না। হয়তো পানির প্রবাহ কিছুটা কমবে কিন্তু তাতে আমাদের কোন অসুবিধা হবে না। তাছাড়া বাধ করা হবে বাংলাদেশের সীমানা থেকে ১০০ কিলো মিটার দূরে। যদি অসুবিধা হয়ই তো সেটা আমাদের চেয়ে ভারতেরই বেশি হবে।
সরকার এ ব্যাপারে কোন পদপে নিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন- আমরা চাইলেই তো হঠাৎ করে একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারি না, তার জন্য আলোচনার একটা ক্ষেত্র দরকার। এখন সরকার আলোচনার সেই ক্ষেত্র তৈরি করছে। আর আলোচনা যে হচ্ছে সেটা তো দেখতেই পাচ্ছেন।
দেবশিশু বলেছেন: আমিও দেখেছি অনুষ্ঠানটা। উনার কথা ও বলার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল একজন ভারতীয় দেশপ্রেমিক নাগরীক তার অধিকার রক্ষার কল্পে ভাষণ দিচ্ছেন।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন