জেল জুলুমের ভয়ে চুপসে থাকলে দেশ বাঁচানো যাবে না
আহসান মোহাম্মদ
সর্বশেষ বিএনপি সরকার ও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম একশ দিনের তুলনা করলে এই দুই আমলের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বিএনপি সরকারের মূল ফোকাস ছিল আইন-শৃংখলা ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি। অপরদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে প্রতিবেশী দেশের নানাবিধ দাবী ও প্রত্যাশা পূরণ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মুল করা। বিএনপি আমলে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই মারমুখী ভূমিকা নিয়েছিল। সেই সরকারের প্রথম দিন থেকেই সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলা হয়েছিল এবং সরকারের দুই মাস না পুরতেই দুইবার হরতাল দেয়া হয়েছিল। অপরদিকে এখন পর্যন্ত বর্তমানের প্রধান বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনমূখী তেমন কোন তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
বর্তমানে দেশবিরোধী পরিকল্পনাগুলো অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে সরকারের তাড়াহুড়ো এবং এক্ষেত্রে বিরোধীদলের অনেকটাই নীরব ভূমিকা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে মারাত্মক শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। সকলেই স্বীকার করবেন, এই সরকারের ক্ষমতায় আরোহণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ঘটেনি। জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তার নির্দেশে জরুরী অবস্থা জারি করে জাতীয়তাবাদীকে নেতাদেরকে গণহারে গ্রেফতার, সরকার ও নির্বাচন কমিশন কতৃক প্রকাশ্যে বিএনপিকে ধ্বংস করার সকল চেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর পূত্র ও উপদেষ্টা কতৃক ইরাকে গণহত্যায় নেতৃত্বদানকারী একজন মর্কিন সেনার সাথে বাংলাদেশকে সেক্যূলার রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা লিখিতভাবে প্রকাশ, শেখ হাসিনার রিচার্ড বাউচারের সাথে সাক্ষাৎ এবং বুশের নিন্দিত �সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের� প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানানো এবং সর্বশেষে নিরাপত্তাবাহিনীর হস্তক্ষেপে একটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে অবিশ্বাস্য বিজয় এনে দেয়া হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরাশক্তির সাথে চুক্তির ভিত্তিতেই সরকারকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে এবং ক্ষমতাশীন হবার প্রথম দিন থেকেই সরকার সেই চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রকাশ্য ভূমিকা নিয়েছে এবং বিভিন্ন কর্মকান্ড জোরে সোরে শুরু করেছে। সেসব কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে,
১. ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে ক্ষমতাশীন দলের মন্ত্রী, এমপি ও স্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় বিডিআর বিদ্রোহ সংঘটিত করে সেনাবাহিনীর ৬৪ জন সেরা অফিসারকে হত্যা করা ও তাদের পরিবারের নারী সদস্যদেরকে গণধর্ষণ করার মাধ্যমে একদিকে যেমন নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর পরস্পরের মধ্যে ঘৃণা ও অবিশ্বাস তৈরী করা হয়েছে, তেমনি তাদের মনোবলও ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এখন এই ঐতিহ্যবাহী বাহিনীকে ভেঙ্গে রক্ষী বাহিনীর আদলে এক বা একাধিক বাহিনী তৈরী করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি হচ্ছে জয়ের পরিকল্পনার �সেকুল্যার সেনাবাহিনী� তৈরীর প্রথম ধাপ।
২. পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে একদলীয় শাসনে ফিরে যাওয়া এবং সংবিধানের মূলনীতি �আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস� কে ধর্মনিরপক্ষেতা দিয়ে প্রতিস্থাপন করার উদ্দেশ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আইনী লড়াই শুরু করা হয়েছে।
৩. ভারত দীর্ঘদিন ধরে টিপাইমুখ বাধ তৈরীর চেষ্টা করে আসছে। এতোদিন বাংলাদেশের তীব্র বিরোধিতার কারণে তারা এ কাজে সফল হতে পারে নি। বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা এ বাধ নির্মানের পক্ষে ওকালতি পর্যন্ত করছেন। টিপাইমুখ বাধ নির্মিত হলে সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হবে।
৪. সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতকে ট্রানজিটের নামে করিডোর দেয়ার পক্ষে মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে কথা বলছেন। একবার করিডোর দেয়া হলে বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে নিপতিত হবে যার পরিণতিতে দেশের স্বাধীনতাও বিপন্ন হতে পারে। এক দেশের ব্যবসা, জাহাজ, নাগরিক ইত্যাদি রক্ষার জন্য ভিন্নদেশ আক্রমণ করার নজীর পৃথিবীতে কম নেই।
৫. ভারতের সাথে যৌথ নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনার কথাও সরকারের মন্ত্রীরা জোরে সোরে বলছেন এবং এর জন্য প্রস্তুতি চলছে বলে জানানো হচ্ছে। এই ধরণের টাস্কফোর্স গঠিত হলে জঙ্গী দমনের অযুহাতে যেকোন মুহুর্তে বাংলাদেশে প্রতিবেশী দেশের সৈন্য প্রবেশ করবে।
৬. তালপট্টির মালিকানা স্থায়ীভাবে ভারতকে দিয়ে দেয়ার তোড়জোড় ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। দ্বীপটির উপর মালিকানা দাবী করে জাতিসংঘে যাচ্ছে ভারত। বাংলাদেশ সরকার এক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৭. সরকার তার বি-ইসলামীকরণ পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সংবিধনের মূলনীতি থেকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস তুলে দেয়ার জন্য সরকার আদালতে গেছে। আইন মন্ত্রী কওমী মাদ্রাসাগুলোকে জঙ্গী প্রজননকেন্দ্র আখ্যা দিয়েছেন। এই সরকারের নিয়োগকৃত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি ফতোয়া দিয়েছেন যে, একমাত্র ইসলাম ধর্মেই জঙ্গীবাদ রয়েছে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে ধ্বংস করার জন্যও সরকার বিভিন্নভাবে চেষ্টা শুরু করেছে।
৮. সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করা, অন্ততঃ পক্ষে তার বাংলাদেশ স্বপক্ষ চরিত্র নষ্ট করে তাকে ভারতপন্থী, ইসলাম বিদ্বেষী ও বিদেশী শক্তির আজ্ঞাবাহী বাহিনীতে পরিণত করার কাজটি সম্পন্ন করার দিকে সরকার এগিয়ে যাচেছ। এক্ষেত্রে বর্তমানে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিদেশী শক্তির নির্দেশে অভ্যূত্থান ঘটানো ও তা সেনাপ্রধান কতৃক বই লিখে বিশ্ববাসীকে জানানো, বিডিআর এর একজন সাবেক মহাপরিচালকের ট্রানজিট দেয়ার পক্ষে জোরালো যুক্তি দেখিয়ে ডিফেন্স জার্নালে প্রবন্ধ লেখা এবং সাম্প্রতিককালে সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন হোটেলের একটি অনুষ্ঠানে দেশের গণ্যমান্য ব্যাক্তিদেরকে দাওয়াত করে শুকরের মাংশ খেতে দেয়া দেখে এ বিষয়ে কিছু ধারণা করা যায় বৈকি।
বলা বাহুল্য যে এই সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রধানমন্ত্রীর দিনবদলের শ্লোগান সত্যি সত্যিই বাস্তবায়িত হবে। শুধু দিনই বদলাবে না, পুরো দেশটার খোল-নলচে বদলে যাবে যার পরিণতিতে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমরা সিকিমের মত একটি প্রদেশের �সৌভাগ্যবান� নাগরিকের মর্যাদা পাবো।
এই সকল বিষয় উপলব্ধি করেই বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনের প্রাক্কালে �দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও� শ্লোগান দিয়েছিলেন। তাঁর সেই আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু, দেশ বাঁচাতে যে ধরণের গণআন্দোলন প্রয়োজন, তার জন্য কোন প্রস্তুতির আলামত দলটির মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। অপরদিকে চারদলীয় জোটের অন্য প্রধান শরীক জামায়াতে ইসলামীকে সরকার যুদ্ধাপরাধী থেরাপি দিয়ে সাফল্যের সাথে চুপসে ফেলতে পেরেছে। সরকার তার দেশবিরোধী কর্মকান্ডগুলো দ্রুত শেষ করে ফেলতে চাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান দুটি বিরোধী দল যদি গা বাঁচিয়ে চলার পথ বেছে নেয়, তাহলে দেশকে বাঁচানো যাবে না, তারা নিজেরাও বাঁচতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে যত দ্রুত সম্ভব নিম্নলিখিত তিনটি পদক্ষেপ নিতে হবেঃ
১. বিএনপিকে হাইবারনেশন থেকে জেগে উঠতে হবে। পল্টন ময়দানের সমাবেশ প্রমাণ করে দলটির প্রতি জনগণের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা সক্রিয় হলেই সরকারের দেশবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রবল গণআন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব। যেহেতু দলটির মাহসচিব অসুস্থতার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর করে নেতা-কর্মীদেরকে উজ্জীবিত করতে পারছেন না, অন্য কেন্দ্রীয় নেতাকেরকেও বিভিন্ন কারণে উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না, তাই খালেদা জিয়াকেই এই দায়িত্ব নিতে হবে। নির্বাচনের প্রাক্কালে সারাদেশ তিনি যেভাবে চষে বেড়িয়েছেন, আবার সেভাবে ছুটে বেড়াতে হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে তিনি যদি বিভাগীয় শহরগুলো সফর করতে পারেন, তাহলে দলকে দ্রুত চাঙ্গা করে তুলতে পারবেন এবং সরকারের দেশধ্বংসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে পারবেন। এই সফরেই তিনি হয়তো নতুন নেতৃত্বও খুঁজে পাবেন।
২. জামায়াত নেতাদেরকে জেলের ভয় জয় করতে হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে যথেষ্ঠ মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন এবং এই ভয়ে কোন বড় ধরণের গণআন্দোলনে যেতে চাইছেন না। একই ধরণের ভয়ের কারণে দলটি তত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলনে যায় নি। এতে তাদের যে কোন লাভ হয়নি, তা নিশ্চয় এতোদিনে তারা বুঝতে পেরেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে এই সরকার সবথেকে খারাপ কি করতে পারে? বড়জোর দলটির শীর্ষ নেতাদের কয়েকজনকে জেল দেয়া হবে। বাংলাদেশে জেল-জুলুম ছাড়া রাজনীতিতে সফল হতে পেরেছেন কয়জন? রাজনীতি করবেন, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবেন, আর ক্ষমতাশীনেরা আপনাদের পথে গোলাপ পাপড়ি বিছিয়ে রাখবে, তা কিভাবে সম্ভব! তাছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে দলটির নেতাদেরকে দলে দলে জেলে ঢুকানো যে খুব সহজ কাজ নয়, তা এতোদিনে সরকারের কার্যক্রমে কিছুটা হলেও প্রমাণিত হয়েছে। দলটির যে ১৫-২০ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে, বিশাল কর্মীবাহিনী রয়েছে, তারা কি বসে থাকবে? এই দলটি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসারে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ফলে দলটিকে নির্মূল করতে চাইলে মুসলিম বিশ্ব থেকে চাপ আসতে পারে। ক্যাঙ্গারু কোর্টের বিচারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এগিয়ে আসবে। যেভাবে জমা-জমি নিয়ে বিরোধ, গ্রাম্য দলাদলি বিভিন্ন কারণে গ্রামে গ্রামে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা শুরু হচ্ছে, তাতে খুব শীঘ্রই এটি সামাজিক অস্থিরতার নতুন উপাদানে পরিণত হবে, যা শাসক দলের জন্য সুখকর হবে না। দলটি তো বলে থাকে, কারো জেল-ফাঁসি দেয়ার মালিক আল্লাহ, মানুষ নয়। তারা যদি সত্যিই কথাগুলো বিশ্বাস করেন, তাহলে তাদের উচিৎ জেল-জুলুমের ভয়ে ভীত না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে ইসলাম ও বাংলাদেশের স্বার্থে আন্দোলনে নেমে পড়া।
৩. চারদলীয় জোটকে অতি দ্রুত সক্রিয় করতে হবে। আওয়ামী লীগের দেশ বিরোধী কর্মকান্ড ও পরিকল্পনাকে প্রতিহত করে দেশকে বাঁচাতে হলে জোটবদ্ধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। ছত্রভঙ্গ বিএনপির পক্ষে একা কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলা কঠিন। বিএনপির জনসমর্থন রয়েছে, জামায়াতের রয়েছে সাংগঠনিক শক্তি। সাধারণ জনগণের মধ্যে ধর্মভিত্তিক অন্যন্য দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। সাথে ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী অন্যান্য দলগুলোকে নিয়ে জোটকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। টিপাইমুখ বাধ নির্মানের বিরুদ্ধে চারদলের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে সিলেট অভিমুখে লংমার্চের আয়োজন করতে হবে।
বাংলাদেশ তার ইতিহাসের সবথেকে কঠিন সময় পার করছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাইয়ে দেয়া হয়েছে, তা অদূর ভবিষ্যতে আর সম্ভব নাও হতে পারে। প্রতিবেশী দেশটি এই সুযোগের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করতে চাইবে। বাংলাদেশকে এমন স্থানে নিয়ে যেতে চাইবে যেখান থেকে আর কখনো সে তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ফিরে না আসতে পারে। এ উদ্দেশ্যে যা যা করা দরকার, তা সরকারের প্রথম বছরেই করে ফেলা হবে। এই অশুভ চক্রান্ত রুখে দেয়া না গেলে বাংলাদেশ বাঁচবে না, বিএনপি-জামায়াতের নেতারাও বাঁচবেন না। সময় ক্ষেপন না করে জেল-জুলুমের ভয় উপক্ষো করে তাদেরকে এখনই শক্তিশালী গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন