বাধ প্রসঙ্গে মন্তব্যঃ
পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র শীল বলেছিলেন, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ভারতীয় পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বা তার মন্ত্রণালয়ের কাছে কোন তথ্য নেই। তিনি এও বলেছিলেন, বাঁধ নির্মাণ হয়ে গেলে বাংলাদেশ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবে।
বাণিজ্য মন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ফারুক খান বলেছেন, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে যারা বিরোধীতা করছেন বা বেশি কথা বলছেন, তারা অনেকেই না জেনেই বিরোধীতা করছেন।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী আফসারুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, "ফারাক্কার সময় আর এখনকার সময় এক নয়। এখন দিন অনেক বদলেছে। বাঁধ দিয়ে ফারাক্কার মতো পানি আটকানোর চেষ্টা করা হলে আমরাও বিষয়টি দেখবো। তবে এ প্রকল্পে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, "টিপাইমুখ হচ্ছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এখানে পানি বেশি সময়ের জন্য আটকে রাখা হবে না। সামান্য কিছু পানি আটকানো হলেও দ্রুতই তা ছেড়ে দেওয়া হবে। জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনেই এটি করা হবে। তাই এতে বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোন আশংকা নেই।
টিপাইমুখ বাধ দেয়া থেকে ভারতকে বিরত রাখতে না পারলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত-অধ্যাপক মোজাফফার অয়াহ্মেদ।
সংসদিয় কমিটি বাধ পরিদরশ্নের পর বাংলাদেশ তার প্রতিক্রিয়া জানাবে- প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনা।
খালেদা জিয়া বলেন, ''বাংলাদেশের আকাশে এখন শকুনের আনাগোনা চলছে। টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে এ দেশকে ধ্বংস ও শেষ করে দিতে চায়।
http://www.dailyinqilab.com/
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, টিপাইমুখে বাঁধে বাধা দেয়া প্রত্যেক বাঙালির কর্তব্য।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভারতের টিপাইমুখেবাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টির প্রতিবাদ জানাবে সরকার। ঢাকায়বসবাসরত বৃহত্তর সিলেটের বাসিন্দাদের সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনেরএক অনুষ্ঠানে একথা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
সমজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ বলেছেন, টিপাইমুখে বাঁধ হলে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মরভূমি হয়ে যাবে। একটি দেশ আরেকটি দেশকে এভাবে বাঁধ নির্মাণ করে ঠেকিয়ে দিতে পারে না। বাংলাদেশ সরকারের এ ব্যাপারে ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানানো উচিত।
টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণে বিএনপির আপত্তির কথা জানিয়ে সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ওই বাঁধ নির্মিত হলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এর ফলে মেঘনা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিপ্রবাহ হ্রাস পাবে, সৃষ্টি হবে মরুকরণ ও লবণাক্ততা। সিলেটের হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেছেন, এ বাঁধ নির্মিত হলে যে ভয়াবহ পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয় হবে সে বিষয়ে এ দেশের মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রথাগত কূটনীতির বদলে অর্থনৈতিক কূটনীতি অনুসরণ করে ভারতের সঙ্গে নদী ও পানিবিষয়ক সমস্যাদি সমাধান করার কোনো বিকল্প নেই। এ বাঁধ নির্মিত হলে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল শীতকালে শুষ্ক এবং বর্ষাকালে বন্যার কবলে পড়বে। একই সঙ্গে বাড়বে ভূমিকম্প ও সুনামির আশঙ্কা। তাই দেশের জনস্বার্থ রক্ষার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে ভারতের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানাতে হবে।
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রখ্যাত পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম মনোয়ার হোসেন বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মিত হলে মেঘনা বেসিনে পানি সরবরাহ কমে যাবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো মেঘনা অববাহিকা এলাকায়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশ কোনো নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ করতে চাইলে ভাটির দেশের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু এখানে তা হচ্ছে না। ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনেক পরে গঙ্গা চুক্তি হয়েছে। এটা ঠিক নয়। আগে আলাপ-আলোচনা করে নেয়া উচিত। তিনি বলেন, এখন মূল কাজ হচ্ছে এ বাঁধ নিয়ে লেখালেখি করা, বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে আনা। এর কোনো বিকল্প নেই।
অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অফ সাউথে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণারত জান্নাতুন নাহারের এক গবেষণা রিপোর্টে জানা গেছে, ভারতের মনিপুর রাজ্যের পাহাড় থেকে নির্গত হয়ে ৯৪৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বরাক, সুরমা, কুশিয়ারা, মেঘনার অভিন্ন নদীপ্রবাহ ভোলা জেলা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এর ২৭৭ কিলোমিটার ভারতের এবং বাকি ৬৬৯ কিলোমিটার বাংলাদেশের মধ্যে। ওই গবেষণা রিপোর্টে জানা গেছে, বাংলাদেশের ১/৬ অংশজুড়ে বিরাজমান উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল হাওরাঞ্চলে টিপাইমুখ বাঁধের কারণে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেবে, যা এক ফসলি হাওরাঞ্চলের কৃষিকে ধ্বংস করে ফেলবে। ভাটির দেশ হিসেবে শুধু বাংলাদেশই নয়, বরং এ প্রকল্পের ফলে খোদ ভারতেরই ২৭ হাজার ২৪২ হেক্টর বনভূমি বিনষ্ট হবে। আসাম, মনিপুর ও মিজোরামের ৩১১ বর্গকিলোমিটার ভূমি প্লাবিত হবে, যার অধিকাংশই আদিবাসী অধ্যুষিত।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন